শৈশব কেটেছে অনাথ আশ্রমে, কঠোর পরিশ্রম করে আজ দাঁড় করিয়েছেন ১৫ মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি

পরিশ্রমই হল সফলতার চাবিকাঠি’- বহুল প্রচলিত এই প্রবাদের প্রতিফলন আজও আমরা সমাজে দেখতে পায়। এই রকমই এক প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় ওরাঙ্গলের বাসিন্দা জ্যোতি রেড্ডি। যখন খুব ছোট তখন তার পিতা তাকে এবং তার বোনকে বাধ্য হয়ে অনাথ আশ্রমের রেখে দিয়ে এসেছিলেন যাতে তারা দুমুঠো ভালো খাবার পায়।

অনাথ আশ্রমে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সুবিধা একেবারেই ছিল না। অনাথ আশ্রমে থাকাকালীন তিনি কিছু বৃত্তিমূলক কাজকর্ম শিখেছিলেন। এছাড়াও তিনি কিছু ঘরোয়া কাজ শিখেছিলেন। এসব কাজ করে তিনি দৈনিক 5 টাকা করে পেতেন। দশম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি পড়াশোনা করার পর 16 বছর বয়সে তিনি সামি রেড্ডি নামক এক যুবককে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর তিনি স্বামীর অর্ধেক একর জমিতে চাষাবাদ করতেন। এই অবস্থায় তাদের এক সন্তান হলে দায়িত্ব বেড়ে যায়। তিনি কেন্দ্র সরকারের স্কিম নেহেরু যুব কেন্দ্রে সেচ্ছাসেবকের কাজ করতেন। এরপর তিনি 1994 সালে বি আর আম্বেদকর ওপেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেন। তার পরে তিনি একটা স্কুলে 394 টাকা মাসিক বেতনের চাকরি পান।

চাকরিটা ঠিক হয়ে যাওয়ার পরে তিনি মন্ডল গার্ল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে কাজ করেন। যেখানে তিনি মাসে 2750 টাকা করে পেতেন। এরপর তিনি 1997 সালে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এভাবে বেশ কিছুটা জীবন অতিবাহিত করার পর একদিন তার কাকাতো ভাইয়ের কথায় তিনি আমেরিকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি তার সহ শিক্ষিকাদের সাথে মিলিত ভাবে চিট ফান্ড থেকে 25000 টাকা পেয়েছিলেন। যদিও এতে তার স্বামী রাজি হননি। কিন্তু তিনি তার কথা শুনেননি। এরপর তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমেরিকার পাসপোর্ট এর জন্য অ্যাপ্লাই করেন। আমেরিকাতে তার জীবনযাপনের জন্য তিনি গ্যাস অপরেটর সেলসগার্ল ইত্যাদি কাজ করেন।

প্রায় দেড় বছর ধরে সংগ্রাম করার পর তিনি আমেরিকাতে তার সমস্ত সঞ্চয় 40000 টাকা দিতে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি খোলেন।এরপর তিনি 2001 সালে ফিনিক্সে এই সফটওয়্যার কোম্পানি সমাধান ও বিকাশের কাজ করত। প্রথম বছরে তার আয় হয়েছিল 168000 টাকা। এখন কোম্পানির টার্ন ওভার হচ্ছে 15 মিলিয়ন ডলার। ইউএসএ এখন তার চারটি বাড়ি রয়েছে এছাড়া হায়দ্রাবাদে একটি বাংলো রয়েছে। বর্তমানে মেয়েদের কাছে তিনি বিশেষ অনুপ্রেরণার পাত্রী হয়ে উঠেছেন।